শুক্রবার । ২৭শে মার্চ, ২০২৬ । ১৩ই চৈত্র, ১৪৩২

‘আগের জেলা প্রশাসককে ইচ্ছা করে বদলি করে দিয়েছি, কারণ গভমেন্ট আমাদের’

গেজেট প্রতিবেদন

কুষ্টিয়ায় আগের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) ‘ইচ্ছা করে বদলি করে দেওয়া হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ (রুমী)। তাঁর ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় মেহেদী আহমেদ এ বক্তব্য দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসান।

২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গত নির্বাচনে (ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন) আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের কিছু গাদ্দার ও আমাদের দলের কিছু গাদ্দার মিলে আমাকে ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে। আমি ১ লাখ ৪০ হাজার ভোট পেয়েছি।’

সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘৬০ বছর ধরে রাজনীতি করি, ৭৩ বছর বয়স আমার। মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছি। অনেকেই আছেন মুক্তিযোদ্ধা নামে, কিন্তু কোনো ভূমিকা পালন করেননি। এ রকম বহু লোকরে চিনি আমরা। আমাদের জন্ম এই কুষ্টিয়া শহরে। আমরা যখন মুক্তিযুদ্ধ করেছি, এখানে আছেন এমন অনেকেরই জন্ম হয়নি।’

নির্বাচনকালে জেলা প্রশাসকের ভূমিকা নিয়ে মেহেদী আহমেদ বলেন, ‘কুষ্টিয়ার আগের জেলা প্রশাসক (ইকবাল হোসেন) গাদ্দারি করেছেন নির্বাচনের সময়। উনি গাদ্দারি করেছেন, কুমারখালী প্রশাসন গাদ্দারি করেছে, খোকসা প্রশাসন গাদ্দারি করেছে। আমি এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতাম। কিন্তু সেটা হতে দেয়নি। জানি না আমার অপরাধ কী? একটু কথা বলি, সত্য বলার চেষ্টা করি—এটাই আমার অপরাধ।’

ওই নির্বাচনের ভোট গণনার জন্য হাইকোর্টে মামলা করেছেন জানিয়ে এই প্রার্থী বলেন, ‘হাইকোর্ট অ্যাকসেপ্ট করেছেন। ২৪ জুন শুনানি আছে। আমার বিশ্বাস, ভোট পুনর্গণনা হবে। আমি বিজয়ী হব।’

বক্তব্যের শেষ দিকে মেহেদী আহমেদ বলেন, ‘আগের জেলা প্রশাসক সাহেবকে আমরা ইচ্ছা করে বদলি করে দিয়েছি। কারণ, গভমেন্ট (সরকার) আমাদের তো। আমি একজন সিনিয়র লোক, ৭৩ বছর বয়স। উনি (জেলা প্রশাসক) এ রকম কাজ করবেন বুঝতে পারিনি। বুঝতে পারলে আমরা আগেই ব্যবস্থা নিতাম।’

কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলমসহ অন্যরা।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান সৈয়দ মেহেদী আহমেদ। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি। ওই আসনে তাঁকে পরাজিত করে জয়ী হন জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থী আফজাল হোসেন।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন